আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের টাইমলাইন ২০০৮-২০২৬

আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার: মোস্তাফিজ, সাকিব ও অন্যদের পুরো ইতিহাস

How we verify: facts on this page are checked against public official sources (boards, tournament organisers and scorecards). We update the page when results or announcements change; tell us if you spot an error. Last checked: 7 November 2026.

সর্বশেষ আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২৬

আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটার (Bangladeshi players in IPL) খুব বেশি নেই, তবে যাঁরা খেলেছেন তাঁদের কেউ কেউ বড় ছাপ রেখেছেন। সাকিব আল হাসান কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে দুবার শিরোপা জিতেছেন, আর মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম মৌসুমেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন। ২০০৮ সালে আবদুর রাজ্জাক থেকে শুরু করে ২০২৫ পর্যন্ত কে কবে কোন দলে ছিলেন, পুরো তালিকা নিচে দেওয়া হলো।

আইপিএলে বাংলাদেশিদের তালিকা

খেলোয়াড়দল ও মৌসুমউল্লেখযোগ্য
আবদুর রাজ্জাকরয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, ২০০৮আইপিএলে খেলা প্রথম বাংলাদেশি
মাশরাফি বিন মুর্তজাকলকাতা নাইট রাইডার্স, ২০০৯নিলামে প্রায় ৬ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি
মোহাম্মদ আশরাফুলমুম্বাই ইন্ডিয়ানস, ২০০৯২০০৯ নিলামে দলে জায়গা
সাকিব আল হাসানকলকাতা (২০১১-২০১৭, ২০২১), সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (২০১৮-২০১৯)২০১২ ও ২০১৪ সালে কেকেআরের হয়ে শিরোপা
তামিম ইকবালপুনে ওয়ারিয়র্স, ২০১২চুক্তি হলেও কোনো ম্যাচ খেলেননি
মোস্তাফিজুর রহমানহায়দরাবাদ (২০১৬-১৭), মুম্বাই (২০১৮), রাজস্থান (২০২১), দিল্লি (২০২২-২৩), চেন্নাই (২০২৪), দিল্লি (২০২৫)২০১৬ সালে শিরোপা ও ইমার্জিং প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড
লিটন দাসকলকাতা নাইট রাইডার্স, ২০২৩৫০ লাখ রুপিতে কেনা, স্বল্প সময় দলে

রাজ্জাক যে ২০০৮ আইপিএলে খেলা একমাত্র বাংলাদেশি ছিলেন, সেটি উল্লেখ আছে তাঁর উইকিপিডিয়া পাতায়। অন্যান্য তথ্য নেওয়া হয়েছে খেলোয়াড়দের প্রোফাইল ও নিলামের প্রতিবেদন থেকে।

সাকিব আল হাসান: দুই শিরোপার নায়ক

২০১১ সালে ৪ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলারে কলকাতা নাইট রাইডার্সে যোগ দেন সাকিব। গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বাধীন সেই দলের অলরাউন্ডার হিসেবে ২০১২ ও ২০১৪ সালে আইপিএল জেতেন তিনি। ফলে আইপিএল শিরোপা জেতা প্রথম বাংলাদেশি তিনিই। পরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ হয়ে ২০২১ সালে আবার কলকাতায় ফেরেন। বাঁহাতি স্পিন আর মিডল অর্ডারের ব্যাটিং দিয়ে তিনি ছিলেন দলের ভারসাম্যের অংশ।

মোস্তাফিজুর রহমান: আইপিএলে সবচেয়ে সফল বাংলাদেশি পেসার

২০১৬ সালে প্রথম মৌসুমেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে শিরোপা আর ইমার্জিং প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড জেতেন মোস্তাফিজ। বিদেশি খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার পাওয়া একমাত্র ক্রিকেটার তিনি। এরপর ছয়টি ভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে খেলেছেন, যা কোনো বাংলাদেশির জন্য রেকর্ড। তাঁর আইপিএল পরিসংখ্যান দেখা যাবে আইপিএলের অফিশিয়াল প্লেয়ার পাতায়।

আইপিএল ২০২২: দিল্লি ক্যাপিটালসে মোস্তাফিজ

২০২২ সালের মেগা নিলামে দিল্লি ক্যাপিটালস তাঁকে ২ কোটি রুপিতে কিনে নেয়। ঋষভ পন্তের দলে তিনি ছিলেন ডেথ ওভারের বিশেষজ্ঞ, আর পরের মৌসুমেও দিল্লিতেই থাকেন। মৌসুমের মাঝপথে জাতীয় দলের খেলার কারণে কিছু ম্যাচ মিস করার প্রবণতা তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারে বারবার দেখা গেছে, ২০২২-ও তার ব্যতিক্রম ছিল না। পরে ২০২৫ সালে দিল্লি তাঁকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে আবার দলে নেয়।

২০২৬: আইপিএলে বাংলাদেশি নেই কেন

২০২৬ আইপিএলের নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনেছিল, যা আইপিএলে কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ দাম। কিন্তু বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মৌসুম শুরুর আগেই কেকেআর তাঁকে ছেড়ে দেয়, বিস্তারিত টিবিএস বাংলার প্রতিবেদনে। এরপর তিনি পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্সে যোগ দেন। ফলে ২০২৬ আইপিএলে কোনো বাংলাদেশি খেলেননি।

কেন আইপিএলে বাংলাদেশি কম

  • সময়সূচির সংঘাত: আইপিএলের সময় প্রায়ই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সিরিজ থাকে, তাই বিসিবি পুরো মৌসুমের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দিতে চায় না।
  • কাজের চাপ: পেসারদের চোট এড়াতে বিসিবি অনেক সময় সীমিত সময়ের অনুমতি দেয়, যা ফ্র্যাঞ্চাইজিদের কাছে আকর্ষণ কমায়।
  • বিদেশি কোটা: প্রতি দলে একাদশে সর্বোচ্চ চারজন বিদেশি খেলতে পারেন, তাই প্রতিযোগিতা অনেক কঠিন।

আইপিএল নিয়ে নিজের জ্ঞান যাচাই করতে চাইলে খেলুন আমাদের আইপিএল কুইজ, আর দেশের লিগ নিয়ে আছে বিপিএল কুইজ। বাংলাদেশের খেলা কোথায় দেখবেন জানতে পড়ুন বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ লাইভ টিভি চ্যানেল। আইপিএলের সর্বশেষ খবর পাবেন আইপিএলের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে, আর ক্রিকেট নিয়ে আমাদের অন্য লেখা ব্লগে।

নিলামে বাংলাদেশিদের দাম: বড় অঙ্কগুলো

বছরখেলোয়াড়দলদাম
২০০৯মাশরাফি বিন মুর্তজাকলকাতা নাইট রাইডার্সপ্রায় ৬ লাখ মার্কিন ডলার
২০১১সাকিব আল হাসানকলকাতা নাইট রাইডার্স৪ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার
২০২২মোস্তাফিজুর রহমানদিল্লি ক্যাপিটালস২ কোটি রুপি
২০২৩লিটন দাসকলকাতা নাইট রাইডার্স৫০ লাখ রুপি
২০২৪মোস্তাফিজুর রহমানচেন্নাই সুপার কিংস২ কোটি রুপি (ভিত্তিমূল্য)
২০২৬মোস্তাফিজুর রহমানকলকাতা নাইট রাইডার্স৯ কোটি ২০ লাখ রুপি (পরে ছেড়ে দেওয়া হয়)

প্রথম দিকে নিলামের দাম ডলারে হিসাব হতো, পরে রুপিতে। তাই মাশরাফি বা সাকিবের দামের সঙ্গে এখনকার দামের সরাসরি তুলনা করা কঠিন। তবে ২০২৬-এর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপি যেকোনো হিসাবেই বাংলাদেশির জন্য রেকর্ড।

আইপিএলের বাইরে মোস্তাফিজ

আইপিএল ছাড়াও মোস্তাফিজ ২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টে সাসেক্সের হয়ে খেলেছেন, যেখানে কাঁধের চোটে মৌসুম শেষ হয়ে যায়। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ লাহোর কালান্দার্স তাঁকে ৬.৪৪ কোটি পাকিস্তানি রুপিতে সরাসরি দলে নেয়। কালান্দার্সের ঘোষণায় বলা হয়, ২০১৬ ও ২০১৮ সালের ড্রাফটেও তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছিল। ফলে এক মৌসুমেই আইপিএল থেকে বাদ পড়ে পিএসএলে যাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের আলোচিত অধ্যায়।

সব মিলিয়ে ২০০৮ থেকে আমাদের তালিকায় সাতজন বাংলাদেশি আইপিএলের কোনো না কোনো দলে জায়গা পেয়েছেন, যার মধ্যে তামিম ইকবাল চুক্তি পেলেও মাঠে নামেননি।

সাধারণ প্রশ্নোত্তর

১. আইপিএলে প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় কে?

আবদুর রাজ্জাক। ২০০৮ সালে প্রথম আইপিএলে তিনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে খেলেন, সেবার একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে।

২. কোন বাংলাদেশি আইপিএল শিরোপা জিতেছেন?

সাকিব আল হাসান (কলকাতা নাইট রাইডার্স, ২০১২ ও ২০১৪) এবং মোস্তাফিজুর রহমান (সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, ২০১৬)।

৩. আইপিএল ২০২২-এ মোস্তাফিজ কোন দলে ছিলেন?

দিল্লি ক্যাপিটালসে, মেগা নিলামে ২ কোটি রুপিতে কেনা। ২০২৩ মৌসুমেও তিনি দিল্লিতে ছিলেন।

৪. আইপিএলে বাংলাদেশির সর্বোচ্চ দাম কত?

৯ কোটি ২০ লাখ রুপি, ২০২৬ নিলামে কলকাতা নাইট রাইডার্স মোস্তাফিজকে এই দামে কেনে। তবে পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Disclaimer: this is an independent information site and is not affiliated with any official body. Online betting may be restricted under Bangladeshi law; 18+ only, decide at your own risk.